দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রকৃত রোগীর বাবা ও উপজেলার নাম পরিবর্তন করে অন্যজনকে ভুয়া মেডিকেল সনদ দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হদিউজ্জামান শেখ ও নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. ফয়সাল আহম্মেদ একটি মামলার প্রকৃত রোগী শাহ জালালের বাবা মহব্বত আলীর স্থলে আলতাব এবং থানা শাহাজাদপুরের স্থলে বেলকুচি তিনি নিজ হাতে সংশোধন করেছেন। একই সিরিয়ালে দুই জন ব্যক্তিকে ভর্তি টিকেট দিয়েছেন। এই বিষয়টি আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করেন।
পরবর্তীতে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। ফয়সাল গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর আদালতের বিচারক ওবায়দুল হক রুমি আমলি আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের ও ক্ষমতা প্রদান করার জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
পরে তিনি চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদ ও বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে মোতালেব হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আজ ফয়সাল আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী শাহজালালের বাবা আলতাব হোসেনকে একটি ইচ্ছাকৃত সৃজিত মেডিকেল সনদপত্র প্রদান করেছেন যা জাল মর্মে প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ তিনি তার এই কাজের মাধ্যমে পেনাল কোর্টের ১৮৬০ এর ৪৬৩ ধারায় অপরাধ করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়।
আদালতের এপিপি হদিউজ্জামান শেখ বলেন, চিকিৎসক ফয়সালের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। রোগীর বাবা ও উপজেলার নাম পরিবর্তন করে তিনি ভুয়া মেডিকেল সনদপত্র দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি আদালতে স্বীকার করেছেন। আজ আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।